সোমবার । ১লা জুন, ২০২৬ । ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১২

গেজেট প্রতিবেদন

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১ জুন) উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানার সমর্থকদের সঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।

স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকরা মারধর করেন। পরে ঈদের পরদিন অ্যাডভোকেট রুবেল শিকদারকে ঘুল্লিয়া বাজারে সোহেল রানার সমর্থকরা মারধর করেন। এরপর সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এসব ঘটনার জেরে রবিবার রাতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে শেখপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় আবারও হামলা-পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যা ও জাহিরুল মোল্যাসহ অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা ও আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।

দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন